জীবনযাত্রার অভ্যাসের কারণে একটা বয়সে অনেকেই মুটিয়ে যাই। এই বাড়তি ওজনের ফলে দেখতে খারাপ লাগে তা নয়, সঙ্গে যোগ হয় একাধিক সমস্যাও। শরীরে অতিরিক্ত মেদের কারণে নানা অসুখ বাসা বাধে। ব্লাড প্রেসার, কোলেস্টেরল, সুগারসহ আরও অনেক সমস্যা ঘিরে ধরে শরীরে। তাই ওজন কমানোর জন্য নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম মেনে চলতেই হবে।

প্রত্যেক মানুষের শরীরের গঠন আলাদা, শরীরের উপর নির্ভর করে মেটাবোলিজম। তাই ডায়েট চার্টও হয় আলাদা। ওজন কমবে তখনই যখন মেটাবোলিজম ঠিক থাকবে। এর জন্য সঠিক ব্রেকফাস্ট এবং নিজেকে হাইড্রেটেড রাখা জরুরি। আর এই কাজটিই করতে পারে মৌরি বীজের চা।

ডিটক্সিফিকেশনের জন্য খুব ভালো কাজ করে মৌরি বীজের চা। এছাড়াও ফ্রেশনার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে মৌরির। রান্নায় ফোড়ন হিসেবে ব্যবহারও করা যায়। সতেজ সবুজ মৌরির রয়েছে নিজস্ব মিষ্টি স্বাদ। যা আমাদের মেটাবোলিজম বাড়িয়ে দেয়। যে কারণে মেটাবোলিজমের পাওয়ার হাউস বলা হয় মৌরিকে।

এই চা ভারী খাবারের শেষে খেলে তা কাজ করে ফ্যাট কাটার হিসেবে। অন্ত্র পরিষ্কার রাখতেও ভূমিকা রয়েছে এই মৌরির। রোজ মৌরি ভেজানো পানি খেতে পারলে দূর হয় কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা। তাই সারারাত এক গ্লাস পানিতে এক চামচ মৌরি বীজ ভিজিয়ে রাখুন। পরদিন সকালে তা ছেঁকে নিয়ে লেবুর রস মিশিয়ে খান। এতে মেটাবোলিজম বাড়বে পেট থাকবে পরিষ্কারও-বলছেন পুষ্টিবিদরা।

মৌরি বীজ আমাদের আরও সাহায্য করে। সেই সঙ্গে ভাল ডিটক্সিফিকেশন হয়, যেখান থেকে মেটাবোলিজম ক্রিয়া বাড়ে। খাবার থেকে যে পরিমাণ শক্তি কোষ অর্জন করে তাই কাজে লাগে ডিটক্সিফিকেশনের ফলে। যে কারণে ঘাম হয়, কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূরে থাকে। আর ওজনও কমে।

যে ভাবে বানাবেন এই লেবু-মৌরির চা

১। পানি-১ কাপ, লেবু- অর্ধেকটা, মৌরি বীজ- হাফ চামচ, মধু- ১ চামচ

২। একটি প্যানে পানি বসিয়ে মৌরি দিন। কাঁচা মৌরি ব্যবহার করতে পারলেই ভাল। এবার তা ছেঁকে নিয়ে গ্লাসে ঢেলে লেবু আর মধু মিশিয়ে পরিবেশন করুন। এতে বাড়বে মেটাবোলিজম, কমবে স্ট্রেস।

প্রতিদিন সকালে খালিপেটে খেতে পারলে ভালো। নইলে মর্নিং ওয়াক থেকে ফিরে খান এই বিশেষ চা। এতে শরীরের অতিরিক্ত ক্যালোরি পড়বে। সেই সঙ্গে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় ওজনও কমবে।